'বিডি ফ্রি প্রেস' বাংলাদেশের প্রথম সংবাদ সংযোগকারী ব্লগ

মূলপাতা বাংলাদেশ

বেতন বকেয়ায় বাতিল হবে পৌরসভা, নিয়োগ দেওয়া হবে প্রশাসক


প্রকাশের সময় :৪ অক্টোবর, ২০২১ ১:৩১ : অপরাহ্ণ

এক বছরের বেশি সময় বেতন-ভাতা বকেয়া রাখলে পৌরসভা বাতিলের বিধান রেখে ‘স্থানীয় সরকার (পৌরসভা) (সংশোধন) আইন, ২০২১’ খসড়ার চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা।

পরবর্তী নির্বাচন না হলে ৫ বছর শেয়াদ শেষ হলে পৌরসভার মেয়র, কাউন্সিলরদের দায়িত্ব ছেড়ে দেওয়ার বিধান রাখা হচ্ছে সংশোধিত আইনে।

সোমবার (০৪ অক্টোবর) মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম এসব কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

তিনি বলেন, পৌরসভার মেয়রদের মেয়াদ ৫ বছর পূর্ণ হলে তার মেয়াদ শেষ হবে। এরপর যদি নির্বাচন করা সম্ভব না হয় তাহলে ৬ মাসের জন্য প্রশাসক বা সরকার মনোনিত যোগ্য ব্যক্তিকে নিয়োগ দিতে পারবে সরকার। তবে প্রশাসকের মেয়াদ ৬ মাসের বেশি হবে না।

এর আগে পৌরসভার মেয়রদের মেয়াদ ৫ বছর পূর্ণ হলে পরবর্তী নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত মেয়র দায়িত্ব পালন করতে পারতেন। এই আইন সংসদে পাস হলে মেয়াদ উত্তীর্ণ পৌরসভার মেয়রগণ আর দায়িত্ব পালন করতে পারবেন না।

সংশোধিত আইন অনুযায়ী, পৌরসভায় প্রশাসক নিয়োগ দেওয়ার ছয় মাসের মধ্যে নির্বাচন দিতে হবে। পৌরসভার ‘সচিব’-এর নাম পরিবর্তন করে ‘পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা’ করা হচ্ছে বলেও জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব।

আইনে যেসব পরিবর্তন আনা হয়েছে

এতোদিন পৌর মেয়রদের মেয়াদ শেষ হলে নির্বাচন অনুষ্ঠিত না হওয়া পর্যন্ত তারা দায়িত্ব পালন করে যেতেন। কিন্তু সংশোধিত আইন অনুযায়ী, পাঁচ বছরের মেয়াদ শেষ হলেই তাদের দায়িত্ব ছাড়তে হবে।

নির্বাচিত মেয়র দায়িত্ব ছাড়ার পর নির্বাচন অনুষ্ঠিত না হওয়া পর্যন্ত সরকার নির্ধারিত প্রশাসক পৌরসভার দায়িত্ব পালন করবেন। প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা সম্পন্ন কোন অফিসার বা সরকার নির্ধারিত কোন ব্যক্তি হতে পারেন।

প্রশাসক ছয়মাসের জন্য নিয়োগ পাবেন। এর মধ্যেই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

এর আগে সিটি কর্পোরেশনে প্রশাসক নিয়োগের বিধান থাকলেও পৌরসভার ক্ষেত্রে এসব বিধান ছিল না। নতুন সংশোধনের মাধ্যমে সেই বিধান যুক্ত করা হল।

সংশোধিত আইন অনুযায়ী, যুক্তিসঙ্গত কারণ ছাড়া এক বছরের বেশি সময় ধরে পৌরসভার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা বকেয়া রাখা হলে সেই পৌরসভা বাতিল করা হবে।

এতদিন পৌরসভা হওয়ার ক্ষেত্রে প্রতি কিলোমিটারে দেড় হাজার মানুষের বসবাসের বাধ্যবাধকতা ছিল। সংশোধিত খসড়ায় সেটা দুই হাজার করা হয়েছে।

এছাড়া পৌরসভার সচিব পদের নাম পরিবর্তন করে পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা করা হচ্ছে।

কোন ইউনিয়ন পরিষদকে যদি পৌরসভায় রূপান্তরিত করা হয়, সেখানে যদি কোন সরকারি কর্মকর্তা থাকেন, তার দায়িত্ব যদি পৌরসভার অর্গানোগ্রামে উপযুক্ত হয়, তাহলে তিনি সেখানে স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংযুক্ত হয়ে যাবেন।


মতামত দিন

আরও খবর