'বিডি ফ্রি প্রেস' বাংলাদেশের প্রথম সংবাদ সংযোগকারী ব্লগ

মূলপাতা বিশেষ সংবাদ

রূপগঞ্জের অগ্নিকাণ্ড: সজীব গ্রুপের কারখানায় বেশিরভাগই ছিল শিশুশ্রমিক


প্রকাশের সময় :১০ জুলাই, ২০২১ ৬:১৯ : পূর্বাহ্ণ

রূপগঞ্জের অগ্নিকাণ্ডএকটু পর পর ছুটে যাচ্ছে এম্বুলেন্স। চারদিকে আর্তনাদ। আহাজারি। ভারি হয়ে উঠেছে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের বাতাস। এম্বুলেন্সের সাইরেন আর স্বজন হারানোদের আর্তনাদে এক হৃদয়বিদারক পরিবেশ তৈরি হয়েছে শীতলক্ষ্যার তীরে।

গত বৃহস্পতিবার (৮ জুলাই) সন্ধ্যার পর নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে অবস্থিত সজীব গ্রুপের অঙ্গপ্রতিষ্ঠান কর্ণগোপের হাসেম ফুড লিমিটেডের কারখানায় ঘটে যাওয়া ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ৫২ জন প্রাণ হারিয়েছেন।

তাদের অধিকাংশই শিশু বলে জানিয়েছেন বেঁচে ফেরা শ্রমিকরা।

দেশে ঝুঁকিপূর্ণ কাজে শিশুশ্রম নিষিদ্ধ হলেও শিশুদের দিয়েই চলছিল হাশেম ফুড লিমিটেডের সেজান জুস কারখানাটি। এসব শিশু শ্রমিকদের অল্প বেতনে খাটাতো প্রতিষ্ঠানটি। এমনকি বকেয়া থাকতো কয়েক মাসের বেতনও।

কারখানাটির শ্রমিক রাজিব বলেন, হাসেম ফুড লিমিটেডের কারখানার বেশিরভাগ শ্রমিক শিশু। তাদের মধ্যে যারা মেয়ে তাদের বয়স ১২ বছর থেকে শুরু আর ছেলেদের বয়স ১৪ থেকে শুরু।

যে ভবনে আগুন লেগেছে সেই ভবনের পাশে একই কোম্পানির আরেকটি ভবনের দায়িত্বশীল একজন বলেন, মূলত কম বেতনের কারণেই মালিক শিশুদের নিয়োগ দিতেন।

শুক্রবার (৯ জুলাই) কারখানার প্রধান ফটকে অপেক্ষমাণ শ্রমিকরা জানান, দুজন ঠিকাদারের মাধ্যমে শিশুদের ভোলা ও কিশোরগঞ্জ থেকে নিয়ে আসা হতো। এই শিশু শ্রমিকদের বেতন ধরা হতো খুবই কম।

সাড়ে ছয় হাজার টাকা বেতনে তাদের চাকরি শুরু হতো। ছয় মাস পরে যাদের স্থায়ী (পার্মানেন্ট) করা হতো তাদের দেওয়া হতো ১০ হাজার ৫০০ টাকা।

শুরুর দিকে হাতের কাজ করলেও চাকরি স্থায়ী হওয়ার পর বিভিন্ন পণ্য তৈরির মেশিনের সহকারী হিসেবে কাজ করতো এই শিশুরা।

ভোলা ও কিশোরগঞ্জ থেকে যেসব শিশু নিয়ে আসা হতো তাদের একটি বড় অংশকে কারখানার পাশে কোয়ার্টারে রাখা হতো।

সেখানে থাকা ও খাওয়া বাবদ এক হাজার টাকা প্রতি মাসে প্রত্যেক শিশুর কাছ থেকে নেওয়া হতো।

কারখানাটির ইলেকট্রিক বিভাগের একজন বলেন, আমি নিচে ছিলাম। আগুন লাগার পর কোথায় লাগছে তা দেখতে উপরে যাই। তখন অনেকগুলো ছেলে ও মেয়ে শিশুকে সিঁড়ি দিয়ে ওপরে উঠতে দেখি।

আমি দোতলা পর্যন্ত উঠে আবার নিচ দিয়ে নেমে আসি। তখনও দেখেছি বাচ্চাগুলো ছুটছে। তারা শুধু ওপরে উঠছিল। শেষে চারতলায় গিয়ে আটকা পড়ছে, আর উপরে উঠতে পারে নাই।

অধিকাংশ মরদেহ ভবনের একই জায়গায় পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা।

মোস্তাফিজ নামে একজন ফায়ার সার্ভিসের কর্মী বলেন, আগুনের ক্ষেত্রে প্রাপ্তবয়স্করাই কী করবেন বুঝতে পারেন না, শিশুরা আরও বেশি আতঙ্কিত ছিলো যেকারণে তাদের মৃত্যুর সংখ্যা বেশি।

কয়লা হয়ে গেল এতগুলো মানুষ!

কারখানায় আগুনগত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পর নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে অবস্থিত সজীব গ্রুপের অঙ্গপ্রতিষ্ঠান কর্ণগোপের হাসেম ফুড লিমিটেডের কারখানায় ঘটে যাওয়া ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় গতকাল বিকাল পর্যন্ত মারা গেছেন ৫২ জন।

এরমধ্যে দুর্ঘটনাস্থল থেকে ৪৯ জনের লাশ উদ্ধার করেছে ফায়ার সার্ভিস। জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে ২৫ জনকে। রাতভর আগুন নিয়ন্ত্রণ ও উদ্ধার তৎপরতা চালায় ফায়ার সার্ভিসের ১৮টি ইউনিট।

গতকাল বেলা ২টার পর থেকে একে একে বের হচ্ছিলো লাশ। তখন পর্যন্ত আগুন নিয়ন্ত্রণে আসেনি। বিকাল ৩টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণের খবর জানায় ফায়ার সার্ভিস।

আগুন লাগার পর থেকেই স্বজনরা ভিড় করছিলেন প্রিয়জনদের খোঁজে। তখন বাইরে স্বজনদের আহাজারি আর ভেতরে আগুনে, ধোঁয়াচ্ছন্ন দমবন্ধ পরিবেশে শোনা যাচ্ছিলো ‘বাঁচাও বাঁচাও’ চিৎকার। ‘আল্লাহ আল্লাহ, মাগো, বাবাগো’ বলে কান্না করছিলেন তারা।

আগুনের লেলিহান শিখা মুহূর্তেই যেন গ্রাস করছিলো ছয়তলা বিশিষ্ট হাসেম ফুড অ্যান্ড বেভারেজ লিমিটেডের কারখানার পুরো ভবনটি। সিঁড়িতে ছড়িয়ে পড়েছে আগুন। জীবন বাঁচাতে বহুতল ভবন থেকে লাফিয়ে পড়েছে মানুষ।

উপায় না পেয়ে কেউ কেউ আশ্রয় নিয়েছেন ছাদে। চতুর্থ তলায় ঘটেছে আরও ভয়াবহ ঘটনা।

কলাপসিবল গেট বন্ধ থাকায় আর্তনাদ করে করেই আগুনে পুড়ে জীবন দিতে হয়েছে শ্রমিকদের। শত চেষ্টা করেও বাইরে বের হতে পারেননি তারা।

প্লাস্টিক, কেমিক্যাল, সিলিন্ডার গ্যাস, কার্টনসহ প্রচুর দাহ্য পদার্থে ভরপুর ভবনটিতে দ্রুতই আগুন ছড়িয়ে পড়ে।

ভস্মীভূত হয় ভবনের আসবাবপত্র, বিভিন্ন পণ্য। বিকট শব্দ হচ্ছিলো আর বোমার মতো আগুনের কুণ্ডলী উড়ছিলো তখন। ভেঙে পড়ছিলো জানালার কাঁচের গ্লাস।

আগুনে পুড়তে পুড়তে আর চিৎকার করতে করতে প্রাণ হারাচ্ছিলেন ভবনের শ্রমিকরা।

ভবনে আটকে পড়া শ্রমিকদের স্বজনদের সামলাতে বেগ পেতে হচ্ছিলো আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের।

প্রত্যক্ষদর্শী কারখানার ইলেকট্রনিক বিভাগের কর্মচারী চিররঞ্জিত সরকার জানান, ভবনের পাশে বিদ্যুতের সাব- স্টেশনে ছিলেন তিনি। চিৎকার শুনেই বের হন। আগুন লেগেছে শুনে বিদ্যুৎ বন্ধ করেন। তখন সময় প্রায় ৬টা।

চিৎকার কান্না আর ভয়াবহ আগুনে যেন জাহান্নামে পরিণত হয়েছিলো এই ভবন। লাফিয়ে পড়ছিলেন অনেকে। চতুর্থ তলায় আটকা পড়ে বাঁচাও বাঁচাও বলে চিৎকার করছিলেন শ্রমিকরা। তাদের শরীরে তখন আগুন জ্বলছিলো।

খবর পেয়ে প্রায় ২০ মিনিটের মধ্যে দুর্ঘটনাস্থলে পৌঁছায় ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা।

গতকাল ওই ভবনে গিয়ে দেখা গেছে আগুনে ক্ষত নিয়ে যুদ্ধবিধ্বস্ত স্থাপনার মতো দাঁড়িয়ে আছে ভবনটি।

ভস্মীভূত হয়েছে ভবনের আসবাবপত্র, কাঁচামাল, নানা পণ্য। চারপাশে ছড়িয়ে আছে তার আলামত। ভবনের বাইরেও রয়েছে পলিথিন, কার্টন, কাগজ, ভাঙা কাঁচের টুকরো। তখনও ভবনের পঞ্চম ও ষষ্ঠ তলা থেকে ধোঁয়া বের হচ্ছে।

ওই দুটি ফ্লোরে তখনও উদ্ধার তৎপরতা শুরু করতে পারেননি ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা। তবে ফায়ার সার্ভিস কর্মীদের ধারণা সেখানে কোনো মানুষ আটকা পড়েনি। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা জানান, ৪৯টি লাশ উদ্ধার হয়েছে চতুর্থ তলা থেকে।

জানা গেছে, ছয়তলা এই ভবনের নিচতলায় তৈরি হতো পলিথিন ও কার্টন। দ্বিতীয় তলায় তৈরি হতো সফট ড্রিংকস সেজান জুস ও টোস্ট বিসু্কট, তৃতীয় তলায় লাচ্ছি, লিচু, নানা ধরনের চকলেট, চতুর্থ তলায় নসিলা, লাচ্ছা সেমাই, চানাচুর, ডালভাজা। পঞ্চম তলাতে ছিল স্টোর রুম, যেখানে মজুত ছিল কাঁচামাল।

কর্মকর্তারা জানান, কঠোর লকডাউনে দিব্যি চলছিলো এই কারখানার কার্যক্রম। গত বৃহস্পতিবার বিকাল ৫টার দিকে অনেক শ্রমিকদেরই ছুটি দেয়া হয়। কিন্তু চতুর্থ তলা ও অন্যান্য ফ্লোরে কিছু শ্রমিক তখনো কাজ করছিলেন।

শ্রমিকরা যাতে বাইরে বের হতে না পারেন সেজন্য কলাপসিবল গেট ছিল বন্ধ।

ওই ভবনের শ্রমিক আলামিন জানান, গেট বন্ধ থাকায় শ্রমিকরা বের হতে পারেননি। যে কারণে সেখানে এত মানুষের মৃত্যু ঘটেছে।

ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা জানান, ভবনে দুটি সিঁড়ি থাকলেও তা অত্যন্ত সরু। দেড় ফিট প্রায়। তাও চতুর্থ তলায় সিঁড়ির উপরের দিক ছিল কাঁটাতার দিয়ে আটকানো, যে কারণে ওই সিঁড়ি দিয়ে ছাদে যাওয়ার সুযোগ ছিল না।

অগ্নিনির্বাপণের নিজস্ব ব্যবস্থাপনাও এই ভবনে ছিল না।

এ বিষয়ে ফায়ার সার্ভিসের ঢাকা বিভাগের উপ-পরিচালক দিনমনি শর্মা বলেন, ভবনের ভেতরে আটকে পড়া মানুষদের বের হওয়ার ব্যবস্থা ছিল না। সিঁড়িগুলো ছোট। অগ্নিনির্বাপণের নিজস্ব ব্যবস্থাপনাও ছিল না।

শুনেছি চতুর্থ তলার কলাপসিবল গেটটা আটকানো ছিল, তবে এটি তদন্ত না করে নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।

ফায়ার সার্ভিস কর্মীদের ধারণা দ্বিতীয় তলা থেকে আগুনের উৎপত্তি। তবে বিষয়টি তদন্ত না করে এখনই মন্তব্য করতে রাজি না তারা।

ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা আগুন নিয়ন্ত্রণ ও উদ্ধার তৎপরতায় ৫৬ মিটার ও ৫৫ মিটারের দুটি ল্যাডার ব্যবহার করেন। ল্যাডার দিয়ে ছাদ থেকে ২৫ জনকে উদ্ধার করেন তারা।

গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা থেকে গতকাল পর্যন্ত অগ্নিনির্বাপণ ও উদ্ধার তৎপরতা চালাচ্ছে ফায়ার সার্ভিস।

সহযোগিতা করছে র‌্যাব, পুলিশ, আনসার ও ভলান্টিয়াররা।

হাসেম ফুড লিমিটেডের কারখানার এডমিন ইনচার্জ সালাউদ্দিন জানান, ভবনটির কারখানায় দুই শিফটে আট শতাধিক শ্রমিক কাজ করতেন। অগ্নিকাণ্ডের সময় প্রায় চারশ’ শ্রমিক সেখানে ছিলেন। ওই ভবন সেন্ট্রাল গোডাউন হিসেবে ব্যবহার করা হয়।

ভবনে বিভিন্ন জুসের ফ্লেভার, রোল, ফয়েল প্যাকেটসহ বিভিন্ন মালামাল ছিল। বিদ্যুতের শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হতে পারে বলে ধারণা তার।

ফায়ার সার্ভিসের উপ-পরিচালক (অপারেশন ও মেইনটেন্যান্স) দেবাশীষ বর্ধন জানান, ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ ও ডেমরা ফায়ার সার্ভিসের ১৮টি ইউনিট ২০ ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

সেখানে উদ্ধারকৃত লাশগুলো এম্বুলেন্সযোগে ঢাকা মেডিকেল কলেজের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ওই কারখানায় কেমিক্যালসহ প্রচুর দাহ্য পদার্থ ছিল।

এ কারণে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে বেগ পেতে হয়েছে। গতকাল দুপুরে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। পরে ড্যাম্পিংয়ের কাজ শুরু করেন ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা।

উদ্ধারকৃত লাশগুলো আগুনে পুড়ে গেছে। দেখে চেনার উপায় নেই।

নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার জায়েদুল আলম বলেন, লাশগুলো পুড়ে গেছে, সেগুলো দেখে শনাক্ত করার উপায় নেই। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সিআইডি ও পুলিশের টিম রয়েছে।

সেখানে জেলা পুলিশের নিয়ন্ত্রণ কক্ষ (কন্ট্রোল রুম) খোলা হয়েছে। ডিএনএ টেস্ট করে নিহতদের পরিচয় নিশ্চিত করা হবে।

দুর্ঘটনার জন্য শ্রমিকদের দায়ী করলেন কারাখানার মালিক

সেজান জুসের প্যারেন্ট কোম্পানি সজীব গ্রুপের চেয়ারম্যান মো. হাশেম আগুন লাগার ঘটনায় শ্রমিকদের অসতর্কতার দিকে অভিযোগের আঙুল তুলে বলেছেন, শ্রমিকদের অবহেলার কারণে আগুন লাগতে পারে।

তিনি বলেন, কোনো শ্রমিক সিগারেট খেয়ে সিগারেট না নিভিয়ে ফেলেছে এবং সেখান থেকেই আগুন লেগেছে।

মো. হাশেম ধারণা করেন, নিচতলায় রাখা বিভিন্ন ধরনের দাহ্য পদার্থের কারণে আগুনের ব্যাপকতা বেড়েছে। তিনি বলেন, ‘নিচের তলার কার্টন থেকে আগুন ছড়িয়ে পড়তে পারে। ওপরের তলাগুলোতে বিভিন্ন মেশিন ও যন্ত্রপাতি ছিল।’

তবে কারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের উপ-মহাপরিদর্শক সৌমেন বড়ুয়া বলেন, কারখানাটি শতভাগ কমপ্লায়েন্ট ছিল না।

তিনি জানান, মাত্র এক মাস আগেই তার দপ্তর কারাখানা কর্তৃপক্ষকে সম্পূর্ণ কমপ্ল্যায়েন্স নিশ্চিত করতে একটি নোটিশও পাঠায়।

এই দুর্ঘটনার আগে থেকেই কারাখানাটির বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছিল এবং বর্তমানে সেই প্রেক্ষিতে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও উল্লেখ করেন সৌমেন বড়ুয়া।

রূপগঞ্জে অগ্নিকাণ্ডে কারও গাফিলতি থাকলে আইনানুগ ব্যবস্থা

নারায়ণগঞ্জে রূপগঞ্জে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী বেগম মন্নুজান সুফিয়ান বলেছেন, কারখানাটির শ্রমিকদের নিরাপত্তার বিষয়ে মালিক কিংবা পরিদর্শন ব্যবস্থায় কারও গাফিলতি থাকলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

শুক্রবার (৯ জুলাই) সন্ধ্যায় দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের একথা জানান তিনি।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘এই কারখানায় কোনো শিশু শ্রমের বিষয় ছিল কি-না তা খতিয়ে দেখা হবে। যদি প্রমাণ পাওয়া যায় তাহলে শ্রম আইন অনুযায়ী মালিকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

প্রতিমন্ত্রী এ সময় অগ্নিকাণ্ডে নিহত শ্রমিকদের পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর প্রত্যেকের পরিবারকে শ্রম মন্ত্রণালয়ের অধীন বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফাউন্ডেশন তহবিল থেকে ২ লাখ এবং চিকিৎসাধীন আহত শ্রমিকদেরকে আগামীকালই ৫০ হাজার টাকা করে চিকিৎসা সহায়তা দেয়া হবে বলে জানান।


মতামত দিন

আরও খবর