সোমবার, ২০শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

BDFreePress.com Is A Bangladeshi News Blog

মূলপাতা বিশ্ব

মরিশাসে বাংলাদেশি নারী ‘ধর্ষণের শিকার’, ঢাকায় ৮ জনের বিরুদ্ধে মামলা


প্রকাশের সময় :১০ জুলাই, ২০২১ ১১:২৮ : অপরাহ্ণ

ধর্ষণবাংলাদেশের কয়েকজন সহযোগিতায় পূর্ব আফ্রিকার দেশ মরিশাসে গার্মেন্টসে চাকরি করতে গিয়ে কোম্পানির মালিকের ধর্ষণের শিকার হয়েছেন এক বাংলাদেশি নারী।

এই অভিযোগ করে ওই নারী আজ শনিবার ঢাকার রামপুরা থানায় মানবপাচার এবং নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের পৃথক ধারায় আট জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন ওই নারী।

মামলা সূত্রে এবং ওই নারীর অভিযোগ থেকে জানা যায়, ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারিতে মরিশাস পৌঁছানোর পর সেখানে একটি টেক্সটাইল কোম্পানিতে হেলপার হিসাবে কাজ শুরু করেন তিনি।

সেখানে বাংলাদেশি মোহাম্মদ শাহ আলম এবং তার সহযোগী ফুরকান, সিদ্দিক ও আসলাম তাকে কোম্পানির মালিকের রুমে তাকে আটকে রাখে। সেখানে কোম্পানি মালিক অনিল কলি তাকে ধর্ষণ করে।

ওই নারী অভিযোগ করেন, ধর্ষণের ভিডিও ধারণ এবং তা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে তাকে পরেও ধর্ষণ করা হয় এবং শারীরিক নির্যাতন চালানো হয়।

একপর্যায়ে অন্তঃসত্বা হয়ে পড়লে মরিশাসের একটি হাসপাতালে নিয়ে অ্যাবরশন করানো হয়।

গত ২৮ ডিসেম্বর অসুস্থ অবস্থায় তাকে দেশে ফেরত পাঠিয়ে দেওয়া হয়। দেশে ফিরে অভিযোগ করার পর তার বাবাকে নজরবন্দি করাসহ ও মানসিকভাবে নানান নির্যাতন করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন ওই নারী।

ওই নারীর অভিযোগ, তার বাবা বিদেশ যেতে চেয়ে রিক্রুটিং এজেন্সি মেসার্স গোলাম রাব্বি ইন্টারন্যাশনালের (লাইসেন্স নম্বর-১০৭৮) সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন।

এজেন্সির লোকজন তাকে বলেন, বয়স বেশি হওয়ায় তিনি যেতে পারবেন না। তার বদলে মেয়েকে ২৮ হাজার টাকা বেতনে মরিশাসে পাঠানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়।

রিক্রুটিং এজেন্সি মেসার্স এম আক্তার এন্ড সন্সের মাধ্যমে ভুক্তভোগী এই নারীকে মরিশাস পাঠানো হয়েছিল।

ভুক্তভোগী নারী বলেছেন, দেশে ফেরার পর তাকে ও তার বাবাকে হুমকি দেওয়া হয়। তিনি আত্মহত্যার চেষ্টা করেন।

ওই নারী জানান, পরে তিনি ও তার বোন ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের সঙ্গে যোগাযোগ করলে ব্র্যাকের পক্ষ থেকে তাকে চিকিৎসাসহ কাউন্সেলিং সহায়তা করা হয়।

ওই নারীর দাবি, ওই কোম্পানিতে ছয়শরও বেশি বাংলাদেশি নারী কাজ করেন। নারীদের টার্গেট করে পতিতাবৃত্তিতে বাধ্য করেন মোহাম্মদ শাহ আলম, ফুরকান, সিদ্দিক ও আসলাম। কোম্পানির মালিক প্রায়ই নারীদের নিপীড়ন করেন।

ব্র্যাকের অভিবাসন কর্মসূচি প্রধান শরিফুল হাসান বলেন, ভুক্তভোগী এই নারী যে বর্ণনা দিয়েছেন সেটি ভয়াবহ। বিদেশে কাজের কথা বলে কাউকে যৌন নিপীড়ন করা বা পতিতাবৃত্তিতে বাধ্য করানো মানবপাচারের মধ্যে পড়ে।

আরও পড়ুন 


মতামত দিন

আরও খবর