'বিডি ফ্রি প্রেস' বাংলাদেশের প্রথম সংবাদ সংযোগকারী ব্লগ

মূলপাতা বরিশাল

বরিশালে ব্যাপক সংঘর্ষ: ইউএনও’র বাসভবনে ভাঙচুর, ওসি-প্যানেল মেয়রসহ গুলিবিদ্ধ ৭


প্রকাশের সময় :১৯ আগস্ট, ২০২১ ৬:২৮ : পূর্বাহ্ণ

সংঘর্ষবরিশালে উপজেলা নির্বাহী অ‌ফি‌সারের কার্যালয়ের সামনে থেকে জাতীয় শোক দিবসের ব্যানার খোলাকে কেন্দ্র করে পু‌লি‌শের সঙ্গে আওয়ামী লী‌গ-ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের ব্যাপক সংঘর্ষ হয়েছে।

এ সময় পুলিশ-আনসার ও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সঙ্গে সংঘর্ষে ওসি ও প্যানেল মেয়রসহ সাত জন গুলিবিদ্ধ এবং ২৫ জন আহত হয়েছেন।

গুলিবিদ্ধরা হলেন কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি নুরুল ইসলাম, কনস্টেবল আবুল কালাম ও মো. শরীফুল এবং প্যানেল মেয়র-২ রফিকুল ইসলাম খোকনসহ সাত জন। তাদের বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

বুধবার রাত ১০টার পর নগরীর সিঅ্যান্ডবি সড়ক এলাকার সদর উপজেলা চত্বরে এ ঘটনা ঘটে। দফায় দফায় সংঘর্ষের পরই ইউএনওর বাসভবনে বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

বরিশাল কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নুরুল ইসলাম জানান, তুচ্ছ বিষয়কে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ শুরু হয়েছে। এ সময় সংঘর্ষে অনেকেই আহত হন।

হামলা ও সংঘর্ষের পর ইউএনওর নিরাপত্তায় গোয়েন্দা পুলিশের সদস্যসহ অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে বলে জানান ওসি নুরুল ইসলাম।

প্রত্যক্ষদর্শী, পুলিশসহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বুধবার রাত সাড়ে ১০টায় বরিশাল সিটি করপোরেশনের ২০ থেকে ২৫ জন কর্মচারী নগরের সিঅ্যান্ডবি রোডে উপজেলা পরিষদ এলাকায় গিয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতার শুভেচ্ছা ব্যানার অপসারণের কাজ শুরু করে।

এসময় ইউএনওর কার্যালয় ও সরকারি বাসভবনের নিরাপত্তায় নিয়োজিত আনসার সদস্যরা তাঁদের পরিচয় জানতে চান। এর পর তাঁরা সকালে এসে কাজ করার জন্য বলেন।

এসময় সিটি করপোরেশনের কর্মচারীদের সঙ্গে দায়িত্বরত আনসার সদস্যদের বাকবিতণ্ডা হয়।

পরে খবর পেয়ে মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক হাসান আহেমদ ওরফে বাবুর নেতৃত্বে ছাত্রলীগের জেলা কমিটির সহসভাপতি আতিকুল্লাহ খান মুনিম, সাংগঠনিক সম্পাদক রাজিব খান, সাজ্জাদ সেরনিয়াবাতসহ শতাধিক নেতাকর্মী সেখানে যান।

পরে সেখানে আনসার সদস্যদের সঙ্গে তাঁদের কথা কাটাকাটি হয়। এসময় নেতাকর্মীরা ইউএনওর বাসায় ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে।

ইউএনওর বাসভবনে দায়িত্বরত আনসার কমান্ডার আম্মাম হোসেন গনমাধ্যমকে বলেন, ইউএনওর বাসভবনের পাশে শোক দিবস উপলক্ষে লাগানো পোস্টার-ব্যানার অপসারণ করতে আসেন সিটি করপোরেশনের লোকজন। এতে বাধা দেন ইউএনও।

এ অবস্থায় সিটি করপোরেশনের লোকজন চলে যান। কিছুক্ষণ পর সিটি করপোরেশনের লোকজনকে নিয়ে পোস্টার-ব্যানার সরাতে আসেন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। তখন ইউএনও রাতে পোস্টার-ব্যানার সরাতে নিষেধ করেন।

এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ইউএনওকে অবরুদ্ধ করেন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে গুলি চালানোর অনুমতি দেন ইউএনও। গুলি চালানোর সঙ্গে সঙ্গে তারা পাল্টা হামলা চালান। তখন দুই পক্ষের সংঘর্ষ লাগে।

এতে ওসি ও প্যানেল মেয়রসহ কয়েকজন গুলিবিদ্ধ হন। পরে তাদের হাসপাতালে নেওয়া হয়। এরপর দ্বিতীয় দফায় সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষে আরও ২০-২৫ জন আহত হন বলে জানান, আম্মাম হোসেন।

বরিশালের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার এনামুল হক গনমাধ্যমকে বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে।

সে সময় ইউএনওর বাসভবনের দিকে কিছু লোক এগিয়ে গেলে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেওয়া হয়। সংঘর্ষে একাধিক পুলিশ আহত হয়।

শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. মো. মফিজুল ইসলাম গনমাধ্যমকে বলেন, গোলাগুলি হয়েছে। সবাই রক্তাক্ত অবস্থায় আমাদের জরুরি বিভাগে এসেছেন। সবাই খুবই আহত।

জেলা প্রশাসক জসিম উদ্দিন হায়দার গনমাধ্যমকে বলেন, এ ঘটনা নিয়ে আমরা সঠিকভাকে পর্যালোচনা করবো। যারা অন্যায় করেছেন, তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ ঘটনায় মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাসান মাহমুদ বাবুসহ কয়েজনকে আটক করা হয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার অভিযোগ, প্রশাসনিক এলাকায় সিটি করপোরেশনের উচ্ছেদ অভিযান না করতে অনুরোধ করার পরও তারা বাসভবনে ঢুকে ভাঙচুর চালায়।

এদিকে, সিটি মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহর দাবি, এ হামলার ঘটনা সিটি করপোরেশনের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র।


মতামত দিন

আরও খবর