'বিডি ফ্রি প্রেস' বাংলাদেশের প্রথম সংবাদ সংযোগকারী ব্লগ

মূলপাতা বিশেষ সংবাদ

রোহিঙ্গা সংকটের ৪ বছর : প্রত্যাবাসনে জটিলতা, কোথাও যাওয়ার নেই


প্রকাশের সময় :২৫ আগস্ট, ২০২১ ১০:০৪ : পূর্বাহ্ণ

রোহিঙ্গাবিশ্বজুড়ে করোনার সংক্রমণ, মিয়ানমারে সামরিক বাহিনীর ক্ষমতা দখল, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে আফগানিস্তান বড় ইস্যু হয়ে ওঠায় রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন মনোযোগ হারিয়েছে।

বিশ্লেষকেরা বলছেন সারা বিশ্বের নজর সরে যাওয়ায় রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবর্তনের বিষয়টি নতুন করে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে।

মিয়ানমারে সামরিক বাহিনীর নির্মম অত্যাচার থেকে বাঁচতে ২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের  মানবিক কারণে আশ্রয় দিলেও শুরু থেকেই বাংলাদেশের লক্ষ্য ছিল তাদের যত দ্রুত সম্ভব ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু করা।

এ লক্ষ্যে ২০১৭ সালের নভেম্বরে মিয়ানমারের সঙ্গে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে চুক্তি সই করেছিল বাংলাদেশ।

কিন্তু এর পরের বাস্তবতা হচ্ছে, মিয়ানমার থেকে পালিয়ে এসে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা শরণার্থীদের প্রত্যাবর্তন প্রক্রিয়া যেকোনো সময় শুরু করতে চায় বাংলাদেশ।

প্রত্যাবর্তন শুরু করতে সহায়ক মাধ্যমগুলোতে প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে ঢাকা। তবু চার বছরে একজন রোহিঙ্গাকেও প্রত্যাবর্তন করা সম্ভব হয়নি।

গত সাত মাসে বিষয়টি নিয়ে দুই দেশের মধ্যে আনুষ্ঠানিক কোনো আলোচনাও হয়নি।

পাশাপাশি রাখাইন থেকে রোহিঙ্গাদের বিতাড়নের মূল হোতা জেনারেল মিন অং লায়েং এখন দেশটির সেনা শাসন ও স্বঘোষিত প্রধানমন্ত্রী।

সম্প্রতি চীনের একটি টিভিতে দেওয়া সাক্ষাৎকারে রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেওয়ার বিষয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবর্তনই বাংলাদেশের মূল লক্ষ্য। তবে রোহিঙ্গারা যে স্বেচ্ছায় ফিরে যাবে সেরকম কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না।

তারা বলছেন, জাতিসংঘ, চীন, যুক্তরাষ্ট্র বা বাংলাদেশ কারও পক্ষেই রোহিঙ্গাদের দাবি-দাওয়া পূরণ করে রাখাইনে ফেরত পাঠাতে পারবে না।

যতদিন না রোহিঙ্গারা রাখাইনে ফিরে গিয়ে নিজেদের অধিকার আদায় না করে নেয়, ততদিন এ সমস্যার সমাধান হবে না।

বাংলাদেশে ফ্রি রোহিঙ্গা কোয়ালিশনের সমন্বয়কারী খিন মাউং বলেন, ‘আমরা মিয়ানমারে ফিরে যেতে চাই। মিয়ানমার আমাদের মাতৃভূমি। কিন্তু সেখানে কোনো বৈধ সরকার নেই। কারা আমাদের নিরাপত্তা দেবে, আবারও যদি আমরা নির্যাতনের শিকার হই সেই দায়িত্ব কে নেবে?

রোহিঙ্গাদের করণীয় এবং প্রত্যাবাসন প্রসঙ্গে এ কর্মকর্তা বলেন, ‘আশার কথা হচ্ছে, রাখাইনে এখন আগের সেই পরিবেশ নেই।

বারবার যে নিরাপত্তা ইস্যুর কথা বলা হচ্ছে, আমরা তথ্য পেয়েছি সেখানে গত চার বছরে আর কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। রোহিঙ্গাদের যত বক্তব্য দাবি-দাওয়া, সেগুলো সেখানে গিয়ে বলতে হবে। তাদের সেখানে ফেরত যেতে হবে।

এখান থেকে আওয়াজ তুলে কোনো লাভ হবে না।

২০১৭ সালে মিয়ানমার মিলিটারি যেটা পেরেছে, এখন তো সেটা পারবে না। পুরো বিশ্বের নজরে রোহিঙ্গা ইস্যুতে আছে। আইসিজেতে মামলা চলছে, চাইলেই তাদের সঙ্গে যা ইচ্ছে তা করতে পারবে না।’

এদিকে, রোববার (২৩ আগস্ট) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে প্রত্যাবাসন ইস্যুতে পররাষ্ট্রসচিব মাসুদ বিন মোমেন জানান, জাতিসংঘকে সরকার চাপ দিয়ে যাবে।

বাংলাদেশে রোহিঙ্গাদের জন্য স্থায়ী কিছু করার চেয়ে বরং সীমান্তের ওপারে যদি কিছু করা হয়, তাহলে তাদের ফেরত যাওয়ার পথ আরও সুগম হবে এমনটা জানান, মাসুদ বিন মোমেন।

এমন এক প্রেক্ষাপটে রোহিঙ্গা ঢলের চতুর্থ বার্ষিকী পালিত হবে আজ ২৫ আগস্ট।

রাখাইনের মানচিত্র থেকে রোহিঙ্গাদের চিরতরে নিশ্চিহ্ন করে দিতে চার বছর আগের ঠিক এই দিনে নৃশংস হত্যাযজ্ঞ শুরু করেছিল মিয়ানমারের সেনাবাহিনী।

২০১৭ সালের ২৫ আগস্টে শুরু হওয়া ওই সেনা অভিযানের পরের পাঁচ মাসের মধ্যে ৭ লাখের বেশি রোহিঙ্গা প্রাণ বাঁচাতে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়।

আর আগে থেকেই অবস্থান করছিল প্রায় ৪ লাখ রোহিঙ্গা। এখন পুরোনো ও নতুন মিলিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গার সংখ্যা প্রায় ১১ লাখ।

প্রত্যাবাসনের ব্যর্থ চেষ্টা

চীনের সরাসরি মধ্যস্থতায় বাংলাদেশ ও মিয়ানমার ২০১৯ সালের ২২ আগস্ট রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের তারিখ ঠিক করেছিল।

এ জন্য কক্সবাজারের শিবিরে গিয়ে রোহিঙ্গাদের বুঝিয়েছিলেন চীনের কর্মকর্তারা। তালিকাও করা হয়েছিল।

কিন্তু রাখাইনের পরিবেশ অনুকূল না থাকা এবং নাগরিকত্বসহ রোহিঙ্গাদের দেওয়া শর্তগুলো পূরণ না হওয়ায় তারা শেষ মুহূর্তে কেউ রাখাইন যেতে রাজি হয়নি।

এর আগে ২০১৮ সালের ১৫ নভেম্বর রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের প্রথম তারিখ ঠিক করেছিল বাংলাদেশ ও মিয়ানমার। সেটিও ব্যর্থ হয়।

২০১৭ সালের নভেম্বরে চুক্তি সইয়ের পর রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের জন্য বাংলাদেশ এ পর্যন্ত আট দফায় মিয়ানমারের কাছে ৮ লাখ ৩০ হাজার জনের তালিকা দিয়েছে।

এর মধ্যে মিয়ানমার মাত্র ৪২ হাজার রোহিঙ্গার তালিকা যাচাই-বাছাই শেষে ফেরত দিয়েছে। আবার এ তালিকাও অসম্পূর্ণ। কারণ, একই পরিবারের সবার নাম তালিকায় নেই।

ফলে এ ধরনের বিচ্ছিন্ন তালিকা দিয়ে কত রোহিঙ্গাকে পাঠানো যাবে, সেই প্রশ্ন রয়েই থাকছে।

কূটনীতিকেরা বলছেন, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন শুরুর জন্য বাংলাদেশ ও মিয়ানমার পৃথকভাবে জাতিসংঘের সঙ্গে দুটি চুক্তি সই করেছে।

এর মধ্যে মিয়ানমার জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা (ইউএনএইচসিআর) এবং জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচিকে (ইউএনডিপি) যুক্ত করে রাখাইনে সহায়ক পরিবেশ তৈরি করতে ত্রিপক্ষীয় চুক্তি করেছিল।

কিন্তু চার বছর পেরিয়ে গেলেও জাতিসংঘ সেখানে সহায়ক পরিবেশ তৈরি করতে ব্যর্থ হয়েছে। শুধু স্থানীয় জনগোষ্ঠীর উন্নয়নের জন্য কয়েকটি প্রকল্প নিয়েছে।

নজর এখন মিয়ানমারের গণতন্ত্র ও আফগানিস্তানের সংকটের ওপর

আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষক এবং কর্মকর্তারা বলেছেন আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের, বিশেষ করে পশ্চিমের শক্তিদের নজর রোহিঙ্গা সংকট থেকে মিয়ানমারে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার দিকে সরে গেছে।

এখন চীন, রাশিয়া ও ভারত এবং পশ্চিমা বিশ্ব আফগানিস্তান সংকট নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে, যেটি প্রতিদিন নতুন রূপ ধারণ করছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন ১৫ আগস্ট তালেবানরা ক্ষমতা দখল করে নেওয়াতে ভয়াবহ পর্যায়ের অস্থিতিশীলতা ও শরণার্থী সংকট তৈরি হওয়ার আশংকা দেখা দিয়েছে।

রাখাইন পরিস্থিতি আরও ঘোলাটে

মিয়ানমারে সামরিক শাসন শুরুর পর রাখাইনের নিরাপত্তাসহ সামগ্রিক পরিস্থিতি আরও ঘোলাটে হয়ে গেছে।

কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠী আরাকান আর্মি সন্ধ্যা হলেই পুরো রাখাইন রাজ্য নিয়ন্ত্রণে নেয়। তারা দিনের বেলাতেও রাজ্যের বেশ কিছু এলাকা নিয়ন্ত্রণ করে।

গত বছরের নভেম্বর ও ডিসেম্বরে আরাকান আর্মির সঙ্গে মিয়ানমারের সেনাদের তুমুল লড়াই হয়েছে। সেনা শাসন শুরুর পর রাখানাইনে সেনাবাহিনীর নিয়ন্ত্রণ কম।

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের বিষয়ে আরাকান আর্মির মনোভাব কী, সেটি জানাও এখন গুরুত্বপূর্ণ।

মিয়ানমারের নির্বাসিত সরকারের আশ্বাস

জাতীয় ঐক্যের সরকার নামে পরিচিত মিয়ানমারের নির্বাসিত সরকার আশ্বাস দিয়েছে, বর্তমানে সেনাশাসিত দক্ষিণ–পূর্ব এশিয়ার দেশটিতে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হলে রোহিঙ্গাসহ অন্যান্য নৃগোষ্ঠী অন্যদের মতোই সব ধরনের নাগরিক অধিকার ভোগ করবে।

অতীতে রোহিঙ্গাদের ওপর যে নৃশংসতা চালানো হয়েছে, তার পুনরাবৃত্তি হবে না।

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গাদের ওপর নৃশংস হামলার চার বছর পূর্তি উপলক্ষে মঙ্গলবার দেওয়া এক বিবৃতিতে জাতীয় ঐক্যের সরকার (এনইউজি) এই অঙ্গীকার করেছে।

মিয়ানমারের নির্বাসিত সরকার এ নিয়ে তৃতীয়বারের মতো রোহিঙ্গাদের অধিকার সুরক্ষার প্রতি সমর্থন জানিয়ে বিবৃতি দিল। এর আগে তারা গত মে ও জুন মাসে দুবার বিবৃতি দিয়েছিল।

প্রথম বিবৃতিতে বলা হয়েছিল, আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (আইসিজে) রোহিঙ্গা গণহত্যার মামলায় সব ধরনের সহযোগিতা করবে এনইউজি।

দ্বিতীয় বিবৃতিতে রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারের নাগরিকত্ব দেওয়া, তাদের মর্যাদার সঙ্গে রাখাইনে ফেরানো, তাদের ওপর নৃশংসতার বিচারের নিশ্চয়তা দেওয়ার পাশাপাশি তাদেরকে এনইউজির সঙ্গে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছিল।

বিবৃতিতে মিয়ানমারের নির্বাসিত সরকার বলেছে, চার বছর আগে রোহিঙ্গাদের ওপর নারকীয় নৃশংসতা চালানো হয়েছিল। ওই নৃশংসতার মধ্য দিয়ে তাদের বিপুলসংখ্যক প্রতিবেশী দেশে যেতে বাধ্য করার ঘটনায় এনইউজি গভীরভাবে মর্মাহত।

মিয়ানমারের এই সেনাবাহিনী কয়েক দশক ধরে নৃতাত্ত্বিক গোষ্ঠী–অধ্যুষিত এলাকায় জাতি, ধর্ম, লিঙ্গ বা রাজনৈতিক বিশ্বাসের কারণে মানবতাবিরোধী ও যুদ্ধাপরাধ চালিয়ে আসছে।

এ বছরের ১ ফেব্রুয়ারি থেকে মিয়ানমারের সব নাগরিক এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় গণমাধ্যমের বদৌলতে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর নৃশংসতা ও সহিংসতার সাক্ষী হয়েছে।

মিয়ানমারের সেনাবাহিনী গত ১ ফেব্রুয়ারি অং সান সু চির নেতৃত্বাধীন এনএলডির সরকারকে উৎখাতের মাধ্যমে ক্ষমতা দখল করে। এনএলডির বিরুদ্ধে ভোট জালিয়াতির অভিযোগ করে গত নভেম্বরের জাতীয় নির্বাচনের ফল বাতিল ঘোষণা করে তারা।

এরপর ওই নির্বাচনে বিজয়ী এমপিদের একাংশ গত ১৬ এপ্রিল বিকল্প সরকার হিসেবে জাতীয় ঐক্যের সরকার গঠন করে।

নির্বাসিত এই সরকারের মূল অংশীদার সু চির দল ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসি (এনএলডি)। তবে এর সঙ্গে যোগ দেন বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর প্রতিনিধিরা এবং ছোট আরও কিছু দল।

বিবৃতিতে মিয়ানমারের নির্বাসিত সরকার অঙ্গীকার করেছে, ইতিহাসের নানা পর্বে রোহিঙ্গাসহ অন্য নৃতাত্ত্বিক গোষ্ঠীগুলোর ওপর সেনাবাহিনী পরিচালিত নৃশংসতার ন্যায়বিচার নিশ্চিতের চেষ্টা চালিয়ে যাবে তারা।

রোহিঙ্গাদের স্বেচ্ছায়, নিরাপদে ও মর্যাদার সঙ্গে আদি নিবাসে ফেরাটা তাদের অগ্রাধিকারের তালিকায় সবার ওপরে রয়েছে জানিয়ে বিবৃতিতে বলা হয়, ‘আমরা বিশ্বাস করি, ১৯৮২ সালের নাগরিকত্ব আইন বাতিল করে একটি নতুন আইন চালু করা যায়।

যেটার ভিত্তি হবে মিয়ানমারের নাগরিক কিংবা যেকোনো জায়গায় মিয়ানমারের নাগরিকের ঘরে জন্মানো কেউ নাগরিক বিবেচিত হবেন।

এ ছাড়া প্রত্যাবাসনের প্রক্রিয়ার সময় নাগরিকত্ব যাচাইয়ের কার্ড দেওয়া বাতিলের মধ্য দিয়ে এই সমস্যার সমাধান হবে।’

মিয়ানমারের নির্বাসিত সরকার বলেছে, রোহিঙ্গা সংকটের মূল উৎস রাখাইনে। তাই এ সমস্যা সমাধানের জন্য আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর পাশাপাশি রোহিঙ্গাদের সুপারিশ বিবেচনায় নিতে হবে।

সামনে কী আসছে?

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক ড. ইমতিয়াজ আহমেদের মতে আগের সব রোহিঙ্গা প্রত্যাবর্তনের ঘটনাগুলো সামরিক শাসনামলে ঘটেছে।

এখন আবারও সামরিক বাহিনী ক্ষমতায় আছে এবং তাদের সঙ্গে রোহিঙ্গা প্রত্যাবর্তন নিয়ে আলোচনা করা সহজ হবে, কারণ তারা এ বিষয়টি নিয়ে অভ্যন্তরীণ চাপের মুখে আছে।

সামরিক বাহিনী ক্ষমতা দখল করে নেওয়ার পর পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেনও একই সুরে কথা বলেছিলেন।

তবে কর্মকর্তারা জানান, এখন পর্যন্ত মিয়ানমারের সামরিক শাসকদের সঙ্গে কোনো কার্যকর যোগাযোগ হয়নি।

হুমায়ুন কবির ও মো. শহীদুল হক বলেন, তাত্ত্বিকভাবে এটি সঠিক হতে পারে, কিন্তু বাস্তবতা অনেকটাই ভিন্ন।

এনইউজি সশস্ত্র বিপ্লবের প্রস্তুতি নেওয়াতে সামরিক শাসকদের মূল লক্ষ্য এখন তাদের ক্ষমতাকে প্রতিষ্ঠিত ও সমন্বিত করা, রোহিঙ্গা সংকটে নজর দেওয়া নয়।

নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাউথ এশিয়ান ইন্সটিটিউট অফ পলিসি অ্যান্ড গভর্নেন্সের (এসআইপিজি) সিনিয়র ফেলো মো শহীদুল হক জানান, রোহিঙ্গা প্রত্যাবর্তন এখন অনেকটাই মিয়ানমারে গণতন্ত্র পুনঃস্থাপনের ওপর নির্ভরশীল।

সুতরাং বাংলাদেশের এখন এনইউজি’র সঙ্গে অনানুষ্ঠানিকভাবে যোগাযোগ স্থাপনের বিষয়টিকে বিবেচনা করা উচিত, কারণ তারা রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব ও মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

তিনি বলেন, ‘আমাদের সব বাধা বিপত্তি জয় করে রোহিঙ্গা প্রত্যাবর্তনের বিষয়টিকে মিয়ানমারের সামরিক শাসকসহ সবার সামনে তুলে ধরতে হবে।’

হুমায়ুন কবির জানান, যদিও আসিয়ান আগে এ বিষয়ে তেমন কোনো বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখেনি, তারা এখন সংকট নিরসনে কার্যকরী ভূমিকা পালন করতে পারে।

তিনি জানান, মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়ার মতো কিছু দেশ এই বিষয়টি নিয়ে বেশ উচ্চকণ্ঠ এবং ঢাকার উচিত তাদের সঙ্গে যোগাযোগ দৃঢ় করা।

অধ্যাপক ইমতিয়াজ আহমেদ জানান, যদিও মিয়ানমারের সঙ্গে ভারত ও জাপানের জাতীয় স্বার্থ জড়িয়ে আছে, তবুও তারা নিজ দেশের স্বার্থকে রোহিঙ্গা সংকট থেকে আলাদা রাখলে সেটি আমাদের কাজে আসতে পারে।

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের মিত্র হিসেবে তাদের উচিত মিয়ানমারকে রোহিঙ্গা সংকটের সমাধান করতে অনুরোধ জানানো।’

অধ্যাপক ইমতিয়াজ জানান, বিশ্বজুড়ে রোহিঙ্গাদের কণ্ঠ এখন পর্যন্ত খুব একটা শক্তিশালী নয়। সারা বিশ্বের রোহিঙ্গাদের মধ্যে নেতৃত্ব ও ঐক্য তৈরি করার উদ্যোগ নেওয়া উচিত।

তিনি জানান, ‘পরিশেষে, সমস্যাটি রোহিঙ্গা ও মিয়ানমারের মধ্যে। আমাদের উচিত তাদের আলোচনার সক্ষমতা বাড়ানোর চেষ্টা করা।’


মতামত দিন

আরও খবর